ধর্ষণের মামলা করায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে হত্যার অভিযোগ

- আপডেট সময় : ০১:১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫ ৪ বার পড়া হয়েছে
বরগুনায় পৌরসভার কালিবাড়ি এলাকায় একটি ঝোপ থেকে মন্টু চন্দ্র দাস (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি নামক স্থান থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মন্টু চন্দ্র দাস বরগুনা পৌর মুরগি বাজারের একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মামলাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যা করা হয়েছে তাকে। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল তদন্তে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছেন বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম।
মন্টুর স্বজন ও পুলিশের ধারণা, মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় মন্টুকে হত্যা করা হয়েছে। এদিন রাত ১টার দিকে স্বজনরা মন্টুর মরদেহ দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে না আসায় মন্টুর মোবাইল ফোনে কল দিলে বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়ে মোবাইলের আওয়াজ শুনতে পান তারা। পরে সেখানে গিয়ে মন্টুর মরদেহ দেখতে পান। এ সময় মন্টুর পরনের কাপড় ছিল ভেজা, হাতে কামড়ের দাগ ও সারা শরীরে কাদা মাখা ছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্বজনরা আরও জানান, সপ্তাহখানেক আগে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করে মন্টু। পরদিন মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই মন্টু ও তার পরিবারকে গ্রেপ্তারকৃত আসামির পরিবার ও অন্যান্য আসামিরা হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ মন্টুর স্বজনদের। বুধবার ওই মামলার নির্ধারিত তারিখ ছিল, তার আগের দিন রাতেই মিলল মামলার বাদী মন্টুর মরদেহ।।
নিহতের স্ত্রী শিখা রাণী দাস বলেন, “রাতে আমাকে কল দিয়ে সে জানায় আসতে দেরি হবে। পরে রাত গভীর হলেও বাসায় ফেরেনি। পরে ফোনে কল দিতে থাকলে ঝোপের মধ্যে রিংটোন বাজতে শুনি। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।”
বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মন্টুর মরদেহের সুরতহাল করেছি। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবার যাদের সন্দেহ করছেন সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।”